• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৪ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

সৈয়দপুরের গৃহবধু বাবলীর কান্না থামছেনা

সিসি নিউজ।। রোববার রাত তখন ৯টা। বাড়ীর পাশের মসজিদে তারাবীর নামাজে গ্রামের পুরুষরা। নামাজের সেজদায় বাড়ীর কর্তা নজরুল ইসলামসহ তাঁর ৫ ছেলে। ঠিক সে সময়ে আগুন লাগার চিৎকার তাঁদের কানে ভেসে আসে। নামাজ শেষে ছুটে এসে দেখতে পায় পুরো বাড়ীর ৯টি ঘর আগুনে পুড়ছে।

এসময় বাছুরসহ বিদেশী জাতের দুধেল গাভীটি বাঁচাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকতে চায় গৃহবধু বাবলী। প্রতিবেশীরা বারবার আটকানোর চেষ্টা করে যেন ব্যর্থ হচ্ছে। এক সময় মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে কাঁদতে থাকে চোখের সামনে দুধেল গাভী ও বাছুর পুড়তে দেখে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত রোববার (৯ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের শ্বাষকান্দর গ্রামের ভুল্লীপাড়ায়।

ওই পাড়ায় ৫ ছেলে নিয়ে যৌথভাবে বসবাস করে বর্গাচাষী নজরুল ইসলাম। বাড়ীর ভেতরে একটি ঘরে ১২টি কোয়ালিটি সেলাইমেশিন নিয়ে ক্ষুদ্র গার্মেন্টস গড়ে তুলেছে বড় ছেলে আনোয়ার হোসেন। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা সেখানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে।

সোমবার (১০ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিবেশীরা আগুনে পুড়ে যাওয়া ৪টি গরু ও ৫টি ছাগল সরানোর কাজ করছে। এ সময় খায়রুল ইসলামের স্ত্রী বাবলী আকতার কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছে। অনেকে সান্তনা দিয়েও তাঁর কান্না থামাতে পারছে না। বিলাপ করতে করতে তিনি বলেন, ঘরের রাখা ঋণ পরিশোধের নগদ ৫০ হাজার টাকা পুড়ে গেছে। আমার এতেও দুঃখ নেই, কিন্তু অবলা পশুগুলো চোখের সামনে পুড়ে মরলো, বাঁচাতে পারলাম না।

এদিকে পুড়ে যাওয়া বইয়ের পাশে বসে কাঁদছে শাহিনুর ইসলাম। সে স্থানীয় বোতলাগাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্র। শাহিনুর জানায়, পোড়া বইয়ের মাঝে তার বড় ভাই হাফিজুল ইসলামের পুড়ে যাওয়া সনদপত্র খুঁজছে। হাফিজুল নীলফামারী সরকারী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র।

এ সময় ঘটনাস্থলে কথা হয় বোতলাগাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রভাষক আব্দুল হাফিজ হাপ্পুর সাথে। তিনি  জানান, আগুনে পুরো পরিবারটি নিঃস্ব হয়েছে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের পার্শ্ববতী মোহাম্মদীয়া শাহ্ সেকেন্দার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি কক্ষে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি ব্যাক্তি উদ্যোগে পরিবারটির পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন।

সৈয়দপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. খুরশীদ আলম জানান, আগুনের সঠিক কারণ জানা যায়নি। তবে বৈদ্যুতিক সর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি জানান, আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূরণে কাজ চলছে।

এদিকে, আগুনের খবর পেয়ে রাতেই সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মোখছেদুল মোমিন, বোতলাগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান জুন ঘটনাস্থলে ছুঁটে যান। এ সময় তাঁরা ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যদের সার্বিক বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে সাহায্য সহযোগিতা করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ